
আমার এখনো মনে আছে, ছোটবেলায় ঈদের চাঁদ উঠলে কী ভীষণ আনন্দ হতো! নতুন জামা মানেই ছিল ঈদের দিনের একমাত্র আকর্ষণ, আর সালামি পাওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষা। সেই দিনগুলোয় আনন্দ ছিল খুব সহজ, খুব সাধারণ। কিন্তু দিন বদলেছে। সেদিন মহল্লার দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম, কানে এলো কিছু অল্পবয়সী ছেলে নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। এবারের ঈদে কার ফোন নতুন মডেলের, কার বাইকের গতি বেশি, কার কেনা ব্র্যান্ডের পোশাকটা বেশি দামী—এসব নিয়েই তাদের তুমুল আলোচনা। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছিল, ঈদটা আর আনন্দের উৎসব নেই, বরং একে অপরকে দেখিয়ে দেওয়ার একটা প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।
শুধু ঈদেই নয়, আমাদের চারপাশের জীবনটাই যেন এমন হয়ে গেছে। ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক বা টিকটক খুললেই চোখে পড়ে পরিচিতদের জীবনের নানা ঝলমলে মুহূর্ত। কেউ দামী রেস্টুরেন্টে খাচ্ছে, কেউ নতুন বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ বা বন্ধুদের সাথে দূরে কোথাও ভ্রমণে গেছে। এসব দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই মনের ভেতর একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ে। মনে হয়, আমার জীবনটা হয়তো অন্যদের মতো এত সুন্দর নয়। এই যে অন্যের সাথে পাল্লা দিয়ে আরও বেশি কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নিজেকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা—এটাই আমাদের ভেতরকার শান্তিটুকু শুষে নিচ্ছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’আলা এই মানসিক রোগটিকে চিহ্নিত করেছেন প্রায় দেড় হাজার বছর আগেই, সূরা আত-তাকাসুরে।
তাকাসুর: এক চিরন্তন ব্যাধি, আধুনিক রূপে
সূরা আত-তাকাসুর মক্কায় অবতীর্ণ একটি সূরা, যার শুরুতেই আল্লাহ্ মানুষের এক গভীর দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন:
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ
“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।” (সূরা আত-তাকাসুর, ১০২:১)
‘তাকাসুর’ শব্দটি এসেছে ‘কাছরাত’ থেকে, যার অর্থ প্রাচুর্য, আধিক্য। এর দ্বারা কেবল টাকা-পয়সাই বোঝানো হয়নি, বরং দুনিয়ার যেকোনো বিষয়ে—হোক তা সম্মান, ক্ষমতা, অনুসারী বা সন্তান-সন্ততি—অন্যের চেয়ে বেশি পাওয়ার লাগামহীন চেষ্টাকেই বোঝানো হয়েছে। পুরনো তাফসীরগুলোতে পড়েছি, জাহেলী আরবে গোত্রগুলো একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করত তাদের ধন-সম্পদ ও লোকবল নিয়ে। এমনকি তারা কবরস্থানে গিয়ে তাদের মৃতদের সংখ্যা গণনা করেও বড়াই করত। আল্লাহ্ তাদের এই অর্থহীন প্রতিযোগিতার নিন্দা করে বলেন:
حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ
“যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে উপনীত হও।” (সূরা আত-তাকাসুর, ১০২:২)
এর মানে হলো, এই প্রতিযোগিতা মানুষকে এতটাই গাফেল করে রাখে যে, মৃত্যু এসে তার জীবনের ইতি টেনে দেয়। তখন তার হুঁশ ফেরে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
আজকের যুগে এই ‘তাকাসুর’ নতুন পোশাক পরে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। এর ক্ষেত্র এখন আর আরবের গোত্রীয় চত্বর নয়, বরং আমাদের হাতের স্মার্টফোন আর শহরের ঝকঝকে শপিং মল। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের জীবনকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর যে সংস্কৃতি, সেটাই এই আধুনিক তাকাসুরের সবচেয়ে স্পষ্ট রূপ।
সোশ্যাল মিডিয়ার মরিচীকা: লাইক, ফলোয়ার ও ভিউয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা
আমার এক পরিচিত ছোট ভাইকে দেখতাম, সে কোথাও ঘুরতে গেলে বা বন্ধুদের সাথে বসলে ছবি বা ভিডিও করা নিয়েই ব্যস্ত থাকত। কোন গানটা এখন টিকটকে ভাইরাল, কোন ফিল্টার ব্যবহার করলে ছবি সুন্দর লাগবে, কী ক্যাপশন দিলে লাইক-কমেন্ট বেশি আসবে—এ নিয়েই তার সব ভাবনা। তার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল দেখলে মনে হবে, তার জীবনটা বুঝি আনন্দে ভরপুর, কোনো কষ্টই নেই। কিন্তু আমি জানি, সাধারণ একটা কাজ করে তাকে নিজের খরচ চালাতে হয়, পরিবারের জন্যও ভাবতে হয়। এই ভার্চুয়াল জীবনের চাকচিক্য বজায় রাখতে গিয়ে বাস্তব জীবনে সে কতটা চাপে থাকে, তা কেবল তার কাছের মানুষেরাই জানে।
এই ‘শো-অফ’ বা জাহির করার সংস্কৃতিই হলো আজকের তাকাসুর। আমরা আমাদের জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো এমনভাবে সবার সামনে তুলে ধরি, যেন আমাদের কোনো দুঃখ বা অভাব নেই। লাইক, শেয়ার আর ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে আমরা আমাদের গ্রহণযোগ্যতা মাপতে শুরু করেছি। যার যত ফলোয়ার, সমাজে তার তত কদর—এই মিথ্যা ধারণা আমাদের ওপর চেপে বসেছে।
অথচ আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এক ভিন্ন জীবনের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
“দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন পথিক বা মুসাফির।” (সহীহ বুখারী)
একজন মুসাফির যেমন তার আসল গন্তব্যের কথা ভোলে না, পথের ধারের সরাইখানার মোহ তাকে আটকে রাখতে পারে না, আমাদের জীবনটাও তো তেমনই হওয়ার কথা ছিল। আমাদের আসল ঠিকানা তো আখিরাত। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই মায়াজাল আমাদের সেই আসল ঠিকানার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। আমরা এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে সাজানোর প্রতিযোগিতায় এমনভাবে মত্ত হয়েছি যে, আসল যাত্রার প্রস্তুতিই নিতে ভুলে গেছি।
ব্র্যান্ডের মোহ ও ভোগবাদ: বাজারের তাকাসুর
সোশ্যাল মিডিয়ার এই ভার্চুয়াল প্রতিযোগিতা আমাদের টেনে নিয়ে যায় বাজারের বাস্তব প্রতিযোগিতায়। চারপাশের বিজ্ঞাপন আর অন্যকে অনুকরণ করার প্রবণতা থেকে আমাদের মনে হতে থাকে, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার না করলে বুঝি সম্মান থাকবে না। লেটেস্ট মডেলের ফোন হাতে না থাকলে বা বন্ধুদের মতো দামী জুতো না পরলে নিজেকে ছোট মনে হয়। এই ভোগবাদ বা Consumerism আমাদের অজান্তেই তার গোলাম বানিয়ে ফেলেছে।
আমার নিজের কথাই বলি। একটা সময় ছিল যখন প্রয়োজন হলেই কেবল কোনো কিছু কিনতাম। কিন্তু এখন অনলাইনে বা দোকানে কোনো নতুন জিনিস দেখলে, বিশেষ করে যদি দেখি আমার পরিচিত কেউ সেটা ব্যবহার করছে, তখন প্রয়োজন না থাকলেও আমার সেটা কিনতে ইচ্ছে করে। এই অপ্রয়োজনীয় ইচ্ছার পেছনে কোনো যুক্তি নেই, আছে কেবল অন্যকে দেখানোর আর নিজেকে অন্যদের কাতারে শামিল করার এক সূক্ষ্ম চাপ।
ইসলাম আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করতে নিষেধ করেছে। একে ‘ইসরাফ’ বা অপচয় বলা হয়। আল্লাহ্ বলেন:
“…এবং তোমরা অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ্) অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।” (সূরা আল-আ’রাফ, ৭:৩১)
এই অপচয়ের মূল কারণ হলো সেই তাকাসুর—অন্যের চোখে নিজেকে বড় করে তোলার আকাঙ্ক্ষা। আমরা অনেক সময় জিনিস কিনি তার গুণের জন্য নয়, বরং তার নামের জন্য, তার দামের জন্য। এই অসুস্থ মানসিকতা আমাদের মনের শান্তি তো কেড়ে নেয়ই, পাশাপাশি আমাদের অর্থনৈতিকভাবেও পঙ্গু করে দেয়। অনেকে তো এসব অপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য কিস্তির বোঝা বা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই সম্পদের মোহ সম্পর্কে তার উম্মতকে কতটা ভয় করতেন, তা এক হাদিস থেকে বোঝা যায়। তিনি বলেছেন:
“আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের জন্য দারিদ্র্যের ভয় করি না, বরং আমি ভয় করি যে তোমাদের ওপর দুনিয়া এমনভাবে প্রসারিত হবে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর হয়েছিল। আর তোমরা তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে, যেমন তারা হয়েছিল। অতঃপর তা তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে, যেমন তাদেরকে ধ্বংস করেছিল।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
আজ আমরা যেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই আশঙ্কারই বাস্তব ছবি দেখতে পাচ্ছি। দুনিয়ার চাকচিক্য আমাদের ঘিরে ধরেছে এবং আমরা তা নিয়ে এক ধ্বংসাত্মক খেলায় মেতে উঠেছি।
মুক্তির পথ: ইসলামের ‘কানা’আত’ বা অল্পে তুষ্টির ধারণা
তাহলে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? ইসলাম এর এক অসাধারণ সমাধান দিয়েছে। সেই সমাধানটির নাম ‘কানা’আত’ বা অল্পে তুষ্টি। কানা’আত মানে হলো, আল্লাহ্ আপনাকে যা দিয়েছেন, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা এবং যা দেননি, তার জন্য আফসোস বা হাহাকার না করা। এর অর্থ কাজ বা উন্নতি করার চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং এর অর্থ হলো, দুনিয়াবী জিনিসকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য না বানানো এবং নিজের ভাগ্যের ওপর আল্লাহর ফয়সালাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়া।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“প্রকৃত ঐশ্বর্য ধন-সম্পদের প্রাচুর্যে নয়, বরং প্রকৃত ঐশ্বর্য হলো আত্মার ঐশ্বর্য (অল্পে তুষ্টি)।” (সহীহ বুখারী)
যখন কোনো মানুষের মনে কানা’আত চলে আসে, তখন ফেসবুকে অন্যের সফলতায় তার হিংসা হয় না, বরং সে নিজের যা কিছু আছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হয়। বাজারে গিয়ে সে লোক দেখানোর জন্য কেনাকাটা করে না, কারণ সে জানে—প্রকৃত শান্তি বস্তুর মধ্যে নয়, মনের ভেতরে।
আমি আমার জীবনে যখন থেকে এই কানা’আতের চর্চা করার চেষ্টা করছি, তখন থেকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করি। যখনই অন্যের কোনো কিছু দেখে আমার মনে হয় ‘ইশ, আমার যদি এটা থাকত’, তখনই আমি আমার নিজের পাওয়া জিনিসগুলোর কথা ভাবি। সুস্থ দুটো চোখ দিয়ে দুনিয়া দেখতে পাওয়া, শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারা, বাবা-মায়ের দোয়া—এই নেয়ামতগুলোর কি কোনো দাম হয়? আল্লাহ্ তো আমাদের প্রতিনিয়ত অসংখ্য নেয়ামত দিয়ে চলেছেন। সূরা তাকাসুরের শেষ আয়াতে আল্লাহ্ আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন:
ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ
“অতঃপর সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে (আল্লাহ্ প্রদত্ত) নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।” (সূরা আত-তাকাসুর, ১০২:৮)
এই আয়াতটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। যে মোবাইল ফোন দিয়ে আমি অন্যের জীবন দেখে আফসোস করছি, সেই ফোনটাও তো আল্লাহর একটা নেয়ামত। আমার দৃষ্টিশক্তি, আমার চিন্তার ক্ষমতা—এই সবকিছু নিয়েই তো আমাকে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। আমি কি এই নেয়ামতগুলো আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে ব্যবহার করছি, নাকি তাঁর অকৃতজ্ঞতায়?
ডিজিটাল মিনিমালিজম: সূরা তাকাসুরের আলোকে আজকের জীবন
এই ভাবনাগুলো আমাকে এক নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে, যাকে আজকের ভাষায় বলা হয় ‘ডিজিটাল মিনিমালিজম’। এর সোজা-সাপ্টা কথা হলো, ডিজিটাল জগতে ততটুকুই বিচরণ করা, যতটুকু না করলেই নয় এবং যা কিছু অপ্রয়োজনীয়, তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। এটা ইসলামের ‘যুহদ’ বা দুনিয়াবিমুখতারই একটি আধুনিক রূপ।
আমি আমার ফোন থেকে এমন অনেক অ্যাপ মুছে ফেলেছি, যেগুলো শুধু আমার সময় নষ্ট করত। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিয়েছি, যাতে ফোন যখন-তখন আমার মনোযোগ কেড়ে নিতে না পারে। আমি সেই সব ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ আনফলো করেছি, যেগুলো আমার মধ্যে কেবল দুনিয়াবী প্রতিযোগিতা আর হীনম্মন্যতার অনুভূতি তৈরি করত। এর বদলে আমি এমন কিছু অনুসরণ করি, যা আমাকে দ্বীনের জ্ঞান দেয়, আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দেয় এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে চলতে সাহায্য করে।
এইটুকু করার ফলেই আমি আমার জীবনের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা ফিরে পেয়েছি। আমি এখন আর ফোনের গোলাম নই, বরং ফোন আমার কাজের একটি যন্ত্র মাত্র। এখন আমার হাতে বই পড়ার জন্য, পরিবারের সাথে কথা বলার জন্য এবং সবচেয়ে বড় কথা, নিজের ভুল-ত্রুটি নিয়ে ভাবার জন্য ও একটু নিবিষ্ট মনে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় থাকে।
সূরা তাকাসুর আমাদের এই শিক্ষাই দেয়। প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা আমাদের কবর পর্যন্ত ধোঁকায় ফেলে রাখবে। তাই সময় থাকতেই আমাদের থামা উচিত। আমাদেরও প্রতিযোগিতা করতে হবে, তবে তা দুনিয়ার ধন-সম্পদ নিয়ে নয়। আল্লাহ্ বলেন:
“…আর ভালো কাজে তোমরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো।” (সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৪৮)
আমাদের প্রতিযোগিতা হবে কে কার চেয়ে বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারে, কে কার চেয়ে বেশি দান করতে পারে, কে তার বাবা-মায়ের বেশি খেদমত করতে পারে, কে উত্তম আখলাকের অধিকারী হতে পারে—এসব নিয়ে। এই প্রতিযোগিতাই আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সত্যিকারের সম্মান ও সফলতা এনে দেবে।
শেষ কথা
আমার বয়সী ভাই ও বন্ধুদের কাছে আমার অনুরোধ, আসুন, আমরা এই অর্থহীন প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসি। ফেসবুকের লাইক বা দামী ব্র্যান্ডের পোশাক আমাদের পরিচয় নয়। আমাদের আসল পরিচয় হলো আমরা আল্লাহর বান্দা, মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত। আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
যখনই অন্যের ঝলমলে জীবন দেখে আপনার মন খারাপ হবে, তখন সূরা তাকাসুরের কথাগুলো একবার ভাববেন। মনে করবেন, এই প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা এক মস্ত বড় ধোঁকা, যা আপনাকে আপনার আসল গন্তব্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। নিজের যা আছে, তা নিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। কানা’আত বা অল্পে তুষ্টির গুণটি অর্জন করার চেষ্টা করুন। দেখবেন, আপনার জীবনটা কত সুন্দর আর শান্তিময় হয়ে উঠেছে। যে শান্তি হাজারটা লাইক বা দামী ফোনও আপনাকে দিতে পারবে না, সেই শান্তি আপনি খুঁজে পাবেন জায়নামাজে, আল্লাহর শুকরিয়ায় আর মানুষের সেবায়।
আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে তাকাসুরের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন এবং অল্পে তুষ্ট থাকার মতো মহৎ গুণ দান করুন। আমীন।